চাকরি ছেড়ে কোয়েল খামারে সফল বিশ্ববিদ্যালয় গ্রাজুয়েট রহমান!

চাকরি ছেড়ে কোয়েল খামারে সফল বিশ্ববিদ্যালয় গ্রাজুয়েট রহমান!

চাকরি ছেড়ে কোয়েল খামারে সফল বিশ্ববিদ্যালয় গ্রাজুয়েট রহমান!

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি নেন আবদুর রহমান। পরিবারের বড় সন্তান হিসেবে দায়িত্বও ছিল অনেক বেশি।

তাই অন্য কিছু ভাবার সময় ছিল না। কিন্তু উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন তাকে তাড়িয়ে দিচ্ছিল।

একসময় সাহস করে চাকরি ছেড়ে দেন। কোয়েলের খামার গড়ে তুলতে সাহায্য করেন। এখন তিনি একজন সফল কৃষক। উদ্যোক্তার স্বপ্ন পূরণ হলো সাহসিকতার সাথে চাকরি ছেড়ে।

লোহাগড়া উপ-জেলার বড়হাতিয়া কুমিরাঘোনার সিকদার পাড়ার বাসিন্দা আবদুর রহমানের কাজ এখন এলাকার যুবকদের কাছে আগ্রহের বিষয়। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চুনতি ইউনিয়নের সিরাত মঠের কাছে এআরবি কোয়েল খামার তার খামার।

আবদুর রহমান বগুড়া ও নওগাঁয় গিয়ে কোয়েল চাষ করেন এবং বিভিন্ন হ্যাচারি পরিদর্শন করেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেড় হাজার কোয়েল নিয়ে শুরু করেন তিনি। তিন মাসেই সফলতা দেখা যায়।

কোয়েলের সংখ্যা দিন দিন বেড়েছে, এখন তা ২০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি খামারে গিয়ে কথা হয় আব্দুর রহমানের সঙ্গে। “তিনি 7 লক্ষ টাকা পুঁজি নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন,” তিনি বলেছিলেন। মাসে ১৪ হাজার টাকায় ২০ শ’ জায়গা ভাড়া নেন। খামারের জন্য দুটি জেনারেটর, ইনকিউবেটর মেশিন এবং অন্যান্য সরঞ্জাম কিনুন। ”

এতদিন কাজ করছিলেন, হঠাৎ করেই খামারে কাজ শুরু করেন। আপনি কি অভিজ্ঞতা আছে? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি এর আগে কোনো ধরনের খামার করিনি। আমি ইন্টারনেটে এবং সংবাদপত্রে প্রকাশিত বিভিন্ন খামারের সাফল্যের গল্প দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছি।

খামার ঘুরে দেখা গেল, “তিনটি বড় চালায় কোয়েল চাষ চলছে। 4 জন কর্মচারী পুরো সময় কাজ করে। এরপরও আবদুর রহমান খামারে কাজ শুরু করে তদারকি করেন।

আবদুর রহমান বলেন, “একটি কোয়েলের ডিম ফুটতে প্রায় ১৮ দিন সময় লাগে। প্রতিটি কোয়েল 100-150 গ্রাম ওজনের হলেই বিক্রির জন্য উপযুক্ত। পানি ও খাবার দিনে ৩ বার দিতে হবে। সাধারণত একটি কোয়েল জন্মের 35-40 দিনের মধ্যে বিক্রি করা যেতে পারে।

তিনি বর্তমানে প্রতিটি কোয়েল ৩২ টাকায় বিক্রি করেন। প্রতি মাসে গড়ে ১৫-১৬ হাজার কোয়েল বিক্রি করেন তিনি। তার খামারে উৎপাদিত কোয়েল বটতলী, চুনতি, কেরানীহাট, চকরিয়া, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামেও বিক্রি হয়। খরচ বাদে তার মাসিক আয় ৩০ হাজার টাকা।

বটতলী বাজারের স্থানীয় বিক্রেতা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “প্রতি সপ্তাহে তিনি আব্দুর রহমানের খামার থেকে প্রায় ৫০০টি কোয়েল কেনেন। কয়েল বিক্রি করেও ভালো লাভ করেন। চুনতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন বলেন, “আব্দুর রহমান এলাকার তরুণদের পথ দেখাচ্ছেন। তার সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে এলাকায় অনেকেই খামার গড়ে তুলতে আগ্রহী হয়েছেন।”

লোহাগড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম দেওয়ান বলেন, “কোয়েলের মাংস ও ডিমে প্রচুর প্রোটিন রয়েছে। বাজারে এর চাহিদাও ভালো। কোয়েলের খামার গড়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবদুর রহমানের খামারের কথা শুনেছি।

খামার পরিদর্শন করে তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়া হবে।

আবদুর রহমান তার খামার বাড়াতে চান। এ অঞ্চলে কোয়েল চাষ ছড়িয়ে দিতেও কাজ করছেন তিনি। খামার গড়ে তুলতে স্থানীয় যুবকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি। তিনি বলেন, “আমি তা মনে করি না। অধিভুক্ত ব্যবসায় সফল হওয়ার জন্য আপনার ভাগ্যের চেয়ে বেশি প্রয়োজন।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *