বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছিলেন কিন্তু বিসিএসে ১ম হলেন ওয়ালিদ।

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছিলেন কিন্তু বিসিএসে ১ম হলেন ওয়ালিদ।

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছিলেন কিন্তু বিসিএসে ১ম হলেন ওয়ালিদ।

বিসিএস ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়! শুনে অনেকেই হাঁচি দেয়। AUST-এর ওয়ালিদই তাদের অবাক করার জন্য যথেষ্ট। ওয়ালিদ বিন কাশেম ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। নিজের ইচ্ছাশক্তি ও মেধা দিয়ে ওয়ালিদ নিজেকে নিয়ে গেছেন অন্য উচ্চতায়।

বিসিএসের স্বপ্ন দেখা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর উৎসাহের খাতায় নাম লিখিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, বিসিএসের ইতিহাসে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে গৌরবের পুরো অংশই তার হাতে।

ওয়ালিদের শৈশব কেটেছে বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলায়। দ্বিতীয় শ্রেণী পর্যন্ত কাটিয়েছেন সেখানে। বাবার চাকরির সুবাদে খুলনা ও বরিশালে জীবন কাটিয়েছেন কিশোর। তবে তার গ্রামের বাড়ি ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলায়।

তারপর বাবার চাকরির সুবাদে ঢাকায় চলে আসেন। ঢাকার একটি স্কুলে ভর্তি হন। মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে তার উচ্চ বিদ্যালয় শুরু হয়। ওই স্কুল থেকে ২০০৩ সালে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ ব্যাজ পান।

এরপর ভর্তি হন তার স্বপ্নের কলেজ নটরডেম কলেজে। সেখান থেকে ২০০৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করেও ৪.৭৫ পেয়ে জিপিএ-৫ থেকে বঞ্চিত হন। মেধাবী ওয়ালিদও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ফেল করেন তাই প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ই ছিল তার শেষ ভরসা।

তিনি হাল ছেড়ে দেওয়ার মতো নন। তাই তিনি আহসানুল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হন। সেখান থেকে সফলভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিভাগে ভর্তি হন।

সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে তিনি সেখানে পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং জাপান থেকে বৃত্তিও পান। এরপর তিনি জাপানে চলে যান। জাপানে যাওয়ার আগে তিনি সার্ক এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের নীতি নির্ধারণে কাজ করেছেন।

পারিবারিক জীবনে তিনি বিবাহিত। এত কিছুর মাঝেও জীবনের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে ভোলেননি ওয়ালিদ। এক মেয়ের বাবাও হয়েছেন তিনি। পরিবারে দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার ছোট। তার মা ছিলেন একজন গৃহিণী, আর বাবা ছিলেন বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের একজন সরকারি কর্মচারী। অবসর নেওয়ার আগে তিনি অতিরিক্ত সচিব ছিলেন।

ছেলের কৃতিত্বের খবর সারা দেশে ছড়িয়ে পড়লে বাবা-মা দুজনেই হজে গিয়েছিলেন। ওয়ালিদ বলেন, আমি কখনো ১ম হওয়ার স্বপ্ন দেখিনি, কিন্তু এই অনুভূতিটা অন্যরকম হয়ে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *