মায়ের দেয়া মাত্র ৯৪৮টাকা দিয়ে আজ কোটি টাকার মালিক লুৎফর রহমান !

লুৎফর রহমান তার মায়ের দেওয়া ৯৪৭ টাকা দিয়ে তার কাঠের (জ্বালানি কাঠ) ব্যবসা শুরু করেন। কাঠের ব্যবসায় ভালো লাভ হচ্ছিল।

লুৎফর রহমান তার মায়ের দেওয়া ৯৪৭ টাকা দিয়ে তার কাঠের (জ্বালানি কাঠ) ব্যবসা শুরু করেন। কাঠের ব্যবসায় ভালো লাভ হচ্ছিল।

লুৎফর রহমান তার মায়ের দেওয়া ৯৪৭ টাকা দিয়ে তার কাঠের (জ্বালানি কাঠ) ব্যবসা শুরু করেন। কাঠের ব্যবসায় ভালো লাভ হচ্ছিল। তিনি তার ব্যবসা সম্প্রসারণের কথা ভাবছিলেন। হঠাৎ একটি ধান মাড়াই মেশিন তার নজরে আসে। এগুলো আসতো কুমিল্লা থেকে। সময় ও শ্রম সাশ্রয় হওয়ায় এই মেশিনগুলো কৃষকদের কাছে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

কাঠের ব্যবসার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেই এসব মেশিন তৈরি করতে পারেন এই ভাবনা নিয়ে ৩০ বছর আগে লুৎফর রহমান প্রথম ধান মাড়াই মেশিন তৈরি শুরু করেন। তিনি দিশারী কাঠগোলা ও ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ নামে ধান মাড়াই মেশিন তৈরির কারখানা স্থাপন করেন।
বলছিলাম ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা পশু হাসপাতালের পাশে দিশারী কাঠগোলা অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মালিক লুৎফর রহমানের কথা।

লুৎফর রহমানের ধান মাড়াই মেশিন কারখানা এখন কোটি টাকার ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। যেখানে এখন ৪০-৫০ জন শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। সততা ও পরিশ্রমে নির্মিত এ কারখানা দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।

লুৎফর রহমান বলেন, “80-এর দশকে কুমিল্লা থেকে কালীগঞ্জে ধানঝাড়া মেশিন আসত। চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এক সময় ভাবলাম আমরাও এই মেশিন তৈরি করতে পারব। সে কথা মাথায় রেখে তিনি তার তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেননি। 1986 সালে নিজের ধান মাড়াই মেশিন। আমি আমার মায়ের দেওয়া 946 টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করি।

সেই ব্যবসা আজ কোটি টাকার ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ ইসলামী ব্যাংক, কালীগঞ্জ শাখা তার ব্যবসায় ৫৫ লাখ টাকা ঋণ সহায়তা দিয়েছে। ”

তিনি আরও বলেন, “শুরুতে একটি মেশিন ১৫০০-২০০০ টাকায় বিক্রি করা যেত। কিন্তু জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে একই মেশিন বিক্রি করতে হচ্ছে ৩৫০০-৪০০০ টাকায়। মেশিনে ব্যবহৃত কিছু যন্ত্রাংশ কুমিল্লা বিসিক থেকে আনা হয়েছে এবং

স্থানীয়ভাবে কাঠ সংগ্রহ করা হয়। লোহার শিট ও রড দিয়ে কারখানায় ধান মাড়াই মেশিনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরি করা হয়। আমার কারখানায় অন্তত ৪০-৫০ জন শ্রমিক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে।

লুৎফর রহমান আরও বলেন, “এ মৌসুমে আমার কারখানা থেকে প্রায় ৪৫০০ মেশিন বিক্রি হয়েছে। কারখানায় উৎপাদিত মেশিন রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ফরিদপুর, বোয়ালমারী, যশোর, ফকিরহাট, নাচোল, সাতক্ষীরা, নড়াইল, পাংশা, বাগেরহাটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। ”

কারখানার নিয়মিত শ্রমিক রাশেদুল ইসলাম আমাদেরকে বলেন, আমি প্রতি মাসে রোজগার করি।
শ্রমিক আব্বাস আলী বিশ্বাস বলেন, মেশিন ফিটিংসের কাজ করে দৈনিক ৬০০-৭০০ টাকা আয় করতে পারি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *